করোনা পরিস্থিতি: বড়লেখায় প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা, জনমনে সন্তুষ্টি barlekhanews24. com

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় দিনরাত মাঠে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরানের নেতৃত্বে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সচেতনতামূলক কার্যক্রম, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণ, সরকারি বিভিন্ন নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করার পাশপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান প্রায়ই রাতের আধারে গরিব মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন। যা জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরী করেছে। দূর্যোগময় এই সময়ে প্রশাসনের কর্মতৎপরতায় জনমনে ব্যাপক সন্তুষ্টি এবং স্বস্তি লক্ষ করা গেছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে সুনসান নিরবতা বিরাজ করছে। এতে সব থেকে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন দিনমজুর গরীব মানুষজন। কর্মহীন অসহায় মানুষদের যাতে ঘরের বাইরে যেতে না হয় সেজন্যে ঘরে ঘরে ত্রান পৗছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত মাইকিং এবং প্ররচাপত্র বিলিসহ জনসাধারণের মাঝেঁ মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম-কানুনগুলো সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে বিভিন্ন এলাকার জনসমাগম স্থানে অবস্থিত হোটেল, চায়ের দোকানসহ দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।  করোনা আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যরে দাম যেন কেউ বাড়াতে না পার,সে জন্য প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জনগণের অপ্রয়োজনীয় ঘুরাফেরা রোধ করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এ পর্যন্ত ১৩টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৮৮টি মামলায় ৪ লাখ ৭৭ হাজার ১শত টাকার অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রবাসফেরত ৭৬ জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যেকের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করেছেন।  হোম কোয়ারান্টাইন না মানায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে  এক প্রবাসীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

উপজেলার কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ৫০.৫০ মে.টন চাল ও ২,৫৭,০০০ নগদ টাকা ৫০৫০টি পরিবারের মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরানের নেতৃত্বে বড়লেখা অফিসার্স ক্লাবের সদস্যদের ১ দিনের বেতনের টাকা দিয়ে একশতটি অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও হতদরিদ্র্যের জন্য খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০টি ইউনিয়নের ২০জন ডিলারের মাধ্যমে ৬৫১৩ টি পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে ১৯২ টন চাল বিতরনের কার্যক্রম চলমান আছে। দুঃস্থ মহিলাদের জন্য ভিজিডির মাধ্যমে ১৫৫২ জন মহিলার ঘরে ঘরে প্রায় ৪৭ টন চাল পৌছে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পৌরসভা এলাকায় প্রতি সপ্তাহে ওএমএসের মাধ্যমে ৩ টন চাল সরবরাহ রাখা হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান জানান, মাননীয় পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর পরামর্শে এবং জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজারের নির্দেশনায় বড়লেখা উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধি এবং সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি। জনগণকে অনুরোধ করে যাচ্ছি আতংকিত না হয়ে সচেতন হওয়ার জন্য। অযথা বাইরে ঘুরাঘুরি না করে ঘরে থাকুন। প্রশাসন সব অবস্থায় সাথে থাকবে।

Leave a comment